![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামালপুরের মেলান্দহে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ছয় জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দী বাজার এলাকায় সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পুলিশ জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম তালুকদার রুনু চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে রুনু তালুকদারের সমর্থকেরা একটি নির্বাচনি গণসংযোগ ও মিছিল শেষে চর গোবিন্দী বাজারে গিয়ে তৈয়বুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বুধবার তৈয়বুর রহমানের সমর্থকেরা সেখানে গেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন—মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল্লাহ, সদস্য হাজী আবদুস সাত্তার, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আলতাফুর রহমান, সদস্য সচিব মো. সোলায়মান, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের ভাই মো. বেলাল এবং বিএনপিকর্মী জাকির হোসেন।
তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে তৈয়বুর রহমান মাস্টার বলেন, “আমি ঢাকায় আছি, হট্টগোলের খবর শুনেছি। খবর শুনে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি, যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। দলের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “রুনু তালুকদারসহ তাদের লোকজন সেখানে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলার কারণে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে নুরে আলম তালুকদার রুনু বলেন, “ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিল্লুর রহমানসহ আমার সমর্থকেরা মঙ্গলবার রাতে চর গোবিন্দী বাজারে বসেছিলেন। এ সময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও যুবদল নেতা রাজ্জাক মদ্যপ অবস্থায় সেখানে এসে ‘এখানে কোনো রাজনীতি চলবে না’ বলে হট্টগোল শুরু করেন।”
তিনি বলেন, “গতকালও (মঙ্গলবার) তারাই প্রথমে হামলা ও মারামারি শুরু করে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে।”
মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, গোবিন্দী বাজারে সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি বলেন, “সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জেনেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”